কবি খগেন্দ্রনাথ অধিকারীর একগুচ্ছ কবিতা
চাঁদ তারা উঠবেই
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
আরব সাগরের তীরে
মত্ত হাতির মতো
হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়
করেছে লণ্ডভণ্ড
কৃষ্ণকলি যতো ছিল
তাদের সবাইকে।
লুটিয়ে পড়েছে ধূলোয়
উড়ন্ত রক্তনিশান
প্রাসাদ গম্বুজ হতে,
চলছে জনতা সেসব
দুপায়েমাড়িয়ে দিয়ে
বিনা সম্ভ্রমে।
এখনো জমাট মেঘ
রেখেছে আকাশ ঢেকে,
হয়তো ভয়ঙ্কর আরো
বিপর্যয় আসবে নেমে
যেটুকুও রয়েছে বীথি
সেও যাবে মুছে।
কোদাল বেলচা কাস্তে হাতে
মরুকে করবে সবুজ
চোয়াল শক্ত করে
অটল বিশ্বাসে পথে,
ঝঞ্জা আঁধার কেটে
চাঁদ তারা উঠবেই।
উদ্যানে
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
মানব উদ্যানে তোমরা
বিচার না করে ধনী
নির্ধন সবাইকেই
জাতের নিরীখে দাও
সংরক্ষণ ঢেলে।
আমার বিতানে কিন্তু
হরেক ফুলের চারা,
কোন কলির কি রং তা
না দেখেই দেই জল,
বিপন্নদের শিকড়ে।
সতেজ ঝাঁকড়ানো গাছের
ঠাঁইও এখানে আছে,
তবে ছাঁটি তাদের ডাল,
আলো পেয়ে নীচে যারা,
তারা যেন বাঁচে।
বিষবৃক্ষের স্থান নেই শুধু,
ওরা যে শোষক তাই,
সমূলে ধ্বংস করি
গোলাপ মল্লিকার কলি
কিশলয় বাঁচাতে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে
আয়ুর আকাশে আমার,
সূর্যি ডুবলো বলে ,
অবোধ দিদান পাখি
তবুও জড়িয়ে আমায়,
যেমনি বকেরা থাকে
শেষ রশ্মি অবধি বসে
মাটিকে আঁকড়িয়ে।
তারপর ধীরে ধীরে
কূলায়ে সবাই ফেরে,
আমার পৌত্রীসোনাও
দাদানের কোল ছেড়ে
মুখটা আঁধার করে,
একমুঠো কৃষ্ণচূড়া
অথবা যে ফুলই জোটে
দেবে বুকে ছড়িয়ে।
জীবন নদীর ঘাটে
দাঁড়িয়ে পেরুতে খেয়া,
বারে বারে আজ ভাবি,
করণীয় বহুবাকি,
একটু সময় পেলে,
বিশ্বটাকে সাজাতাম আরো ,
নাতনির মত সব
শিশুদের তাগিদে।
কোন তো উপায় নেই,
যমরাজ রয়েছে পিছে,
কর্ম যা রইলো বাকি,
পঞ্চভূতে মিশে গিয়ে,
কিম্বা পরমাণু হয়ে,
তারকা গোলাপ রূপে,
সমাধা অশরীরী সত্তায়
দেবো ঠিক করে।
