কবি সুমন পালের একগুচ্ছ কবিতা

 




ছোট্ট জিজ্ঞাসা
সুমন পাল

অশান্ত এক পৃথিবী।
ক্ষুধাতুর জনতা।
রাত জাগা, স্বপ্নহীন একরত্তি
জানতে চাই আগামীর পৃথিবীতে তার নিশ্চয়তা,?
বাঁচার স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ?
জানতে চাই কোথায় তার দেশের সীমানা?
জানতে চাই সে রোহিঙ্গা, বিদেশি, ধর্মীয় উৎপিরনের শিকার নতুবা জাতিগত বিদ্বেষের অজুহাত?
পাবে তো সম্ভ্রমরক্ষার নিশ্চয়তা?


সমদূরত্ব
সুমন পাল

একটা দায়িত্বশীল প্রতিশ্রুতি।
টুনকো ভুল বুঝাবুঝি।
বাঁধভাঙ্গা অবিশ্বাসের বেড়াজাল।
কালবেলায় মনের আকাশে বৈশাখী ঝড়,
চাওয়া-পাওয়ার ক্ষনিকের যন্ত্রণা,
সঠিক বেঠিক ভাবনাহীন মুমূর্ষ জীবন।
দুঃস্বপ্নের হাতছানি,
অশ্রু ভেজা রাত।
সামাজিক অবক্ষয়ের মাঝেও হতাশার লুকোচুরি।
তবুও সানন্দের মাঝেও মেলবন্ধনের উঁকিঝুকি।
অটুট হোক বন্ধন।
কেটে যাক সমদুরত্ব।।।



এ কেমন সকাল!
সুমন পাল

তখনো সূর্যের রশিটা অস্পষ্ট,
মর্নিং ওয়াকের আহবানে কয়েকজন বন্ধুর উঁকিঝুঁকি।
হেমন্তের অনুভূতি ভরা শিতার্ত পরিবেশে চায়ের দোকানে গল্পের আড্ডা তে মন্দির মসজিদ।।
শোনা যায় না একটি বাক্য ও
অভাগা দেশে হতভাগাদের জীবন কাহিনী।।
মন্দির মসজিদে তর্কে ব্যস্ততায় অপেক্ষায় রয়ে যায় মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব নারী নিরাপত্তা সামাজিক সমস্যা।
ভুলে যেতে হয় চাকরি হারাদের হাহাকার,
চাকরিপ্রার্থীদের ধরনা
ব্রাত্য শিক্ষার প্রসঙ্গ।
উগ্র ধর্ম উন্মাদনায় ব্যতিব্যস্ত মর্নিংওয়াকের আড্ডা তে।।
স্মরণে রয়ে যায় জীবনানন্দের সেই বাক্য,,
,  অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবী তে আজ।
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা।
যাদের হৃদয়ে কোন প্রেম নেই_
প্রীতি নেই, করুনার আলোড়ন নেই।
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজও
মানুষের প্রতি।
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক হলে মনে হয়।
মহা সত্য বা রীতি, বা শিল্প অথবা সাধনা,
সুকুন ও শিয়ালের খাদ্য, আজ তাদের হৃদয়।।।



এদেশ কার
সুমন পাল

ছোট্ট একটা স্বপ্নের নীড় গড়ার বাসনা ।
বহুদূর পাড়ি দেওয়ার অব্যক্ত যন্ত্রণা।
মাতৃস্নেহের নিবিড় স্পর্শ ছাড়িয়ে ।
তেপান্তরে পারি স্বপ্নে বিভোর  হয়ে।
কর্মের তাড়নায় ছুটন্ত এক ছোট্ট স্বপ্ন।।
রুটি রুজি খোঁজার তাড়নায়।
মাতৃভাষা বলা অন্যায়।
কত জনকে এইভাবে চলে যেতে হবে মৃত্যুর আঙিনায়!
মাতৃভাষা বলার  অপরাধে ঝরে গেল তাজা প্রাণ!
রয়ে গেল হাহাকার আর কান্না।
অপরাধ একটাই বাংলা কথা বলার।
প্রশ্ন রয়ে যায় এ দেশ কার?
এ সমাজ কার?
যারা এ সমাজ তৈরির কারিগর তাদেরই শবদাহের ওপর গড়ছে মৃত্যুর ইমারত!
উত্তর চাইবে ভবিষ্যৎ??



এই পৃথিবী কার!
সুমন পাল।ও


বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে দিগন্তে।
আতঙ্কিত সাম্রাজ্যবাদ।
সেই আগুনে ঘি ঢালছে উন্মত্ত মৌলবাদ ।
দেশে দেশে যখন উঠছে আওয়াজ সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক।
জ্বলছে আকাশ ,জ্বলছে বাড়ি, জ্বলছে মানুষ রাস্তার ধারে।
ভেঙে ফেলো সব উন্মত্ত আঁধার।
জ্ঞানের আলো জ্বালো তবে, মানবতার হোক জয়গান।
ছাড়ো ছাড়ো ধর্মান্ধতা,
গড়ে তোল মানবতা।
সরিয়ে ফেলো প্রতিযোগিতা,
উগ্র ধর্মের কবর খুঁড়ে হোক সমাধিতা।
আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ুক নজরুল আর রবীন্দ্র গীতি।
জাগুক সবাই মানবতার পথে, লড়াই নয় মন্দির, মসজিদের পথে।
হাতে হাত রেখে মানবতার সাথে।



যদি না বোঝো
সুমন পাল

ছাদের অলিন্দে বসন্তের বিকেলে, পড়ন্ত বেলায় আড্ডার মাঝে।
স্মৃতির ক্যানভাসে কিছু কথা রচিত হয়ে যায় ব্যথাময় মনের অজান্তে।
ভালোবাসার মানুষের কাছে খুনসুটি, একরাশ অভিযোগ সইতে যদি না পার?
প্রিয় মানুষের কাছে যদি প্রমাণ দিতে হয় তোমার স্নেহের পরশ না পাওয়া রাগের বহিঃপ্রকাশের পাহাড় সম শব্দের ঝংকারে কম্পিত হৃদয় ভাঙ্গে!
জানি তবে হৃদয়ঙ্গম কঠিন হলেও ভালোবাসার পরশে নরম করা কি অসহনীয়, নিষ্ঠুর প্রতিশোধ!
জানি তবে গলিত লোহাকে আয়ুধ বানিয়ে রেখেছি আমরা কত যত্নে।
পারবে না বলতে না চাওয়া কথাগুলো ক্ষমা করে দিতে!
দিবানিশি কাটিবো কেমনে ব্যথিত মনের হৃদয় প্রাণে।
কেটে যাওয়া কত মুহুর্তময় স্মৃতিগুলো নিমেষে গুলিয়ে দিতে!
তবু বলবে তুমি অপরাধী?
তবু বলবে বিশ্বাস করিনা!



বিচারহীন জীবন
সুমন

রুদ্ধ চারি দেওয়াল,
স্তব্ধ পৃথিবী, থমকে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস,
অচেনা অসংখ্য মুখো মন্ডল।
ক্রন্দনরত হৃদয় থেকে নিংড়ে না আসা অশ্রু।
অপরাধী সঙ্গে বিনা অপরাধীর কারাবাস।
প্রতিটি মুহূর্ত যেন দম ফুরিয়ে আসা পরিস্থিতি।
যেন এক অন্য পৃথিবী,
তার মাঝেও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।
জামিন না পাওয়ার একটা অনাকাঙ্ক্ষা,
মুছরে পড়া জীবন
ভাঙ্গো ওই আইনের অচলায়তন।



আত্মহারা পথিক
সুমন পাল

জীবনের মধ্যাহ্নে মহিরূপে আমি।।।
জীবনের মাঝে জীবন খুঁজি ।
পথভোলা এক পথিক হয়ে।
তবুও তোমাদের মাঝে উদিত হব আকাশের তারা মতো রয়ে।
অন্ধকারে যদি পথ হারাও তবুও তুমি দেখিবে আমায় আকাশের মাঝে মিটমিট করে জ্বলবো তবে।
তুমি যদি মোমবাতি হয়ে গলবে যেমন।
সলতের মত  দগ্ধ হবো আমিও তোমার মতন।।।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url